অনুসন্ধান

গত এপ্রিল ২৩ তারিখ, ‘স্বাস্থ্য বুলেটিন’ শীর্ষক প্রেস কনফারেন্সে, কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও মোকাবেলার জাতীয় কমিটির প্রধান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক দাবী করেন যে বিভিন্ন দেশের ৪৫তম দিন পরের অবস্থার তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থা ইতিবাচক।

এই দাবীর পিছনে তিনি কিছু উপাত্ত তুলে ধরেন। তার প্রদত্ত উপাত্ত অনুযায়ী, নিজ নিজ দেশে প্রথম কোভিড-১৯ কেস শনাক্ত হওয়ার ৪৫তম দিন পর বিভিন্ন দেশের অবস্থা নিম্নরূপ—

দেশ ৪৫তম দিন
পরের তারিখ
দাবীকৃত
মোট কেস
দাবীকৃত
মোট মৃত্যু
বাংলাদেশ এপ্রিল ২৩ ৩,৭৭২ ১২০
ইতালি মার্চ ১৬ ১৩০,০০০ ১১,০০০
স্পেন মার্চ ১৭ ১০০,০০০ ১০,০০০
যুক্তরাষ্ট্র মার্চ ৬ ১২০,০০০ ২৪,০০০

বাংলাদেশ ছাড়া অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে তার প্রদত্ত এই তথ্য প্রকৃত উপাত্ত থেকে ব্যাপক ব্যবধানে ভুল। প্রকৃত উপাত্ত হচ্ছে—

দেশ ৪৫তম দিন
পরের তারিখ
মোট কেস মোট মৃত্যু প্রতি হাজার জনসংখ্যায়
টেস্টের পরিমাণ
বাংলাদেশ এপ্রিল ২৩ ৩,৭৭২ ১২০ ০.১৯
ইতালি মার্চ ১৬ ২৩,৯৮০ ১,৮১১ ২.৩৩
স্পেন মার্চ ১৭ ৯,১৯১ ১,৮১১ উপাত্ত নেই
যুক্তরাষ্ট্র মার্চ ৬ ২৩৩ ১২ উপাত্ত নেই

আমরা সূত্র হিসেবে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ভিত্তিক ‘Our World in Data’ নামক অনলাইন প্রকাশনী থেকে উপাত্ত সংগ্রহ করি। টাইমজোন ও রিপোর্টিং পদ্ধতির পার্থক্যের কারণে বিভিন্ন সংস্থার উপাত্তে সামান্য তারতম্য থাকতেই পারে। কিন্তু উপাত্তে এমন পার্থক্য থাকা অস্বাভাবিক। আমাদের পর্যালোচনা প্রকাশের পূর্বেও আমরা নিশ্চিত হতে প্রকৃত উপাত্ত বিভিন্নভাবে মিলিয়ে নেই। কিন্তু তারপরও এমন ভুল করার পিছনে সুনির্দিষ্ট কারণ আমাদের কাছে এখনো স্পষ্ট নয়।

Worldometer.com ‘বিভ্রান্তি’

এই সংক্রান্ত সত্যতা যাচাই পোস্ট প্রকাশ করা হলে কিছু পাঠক পাল্টা ‘যাচাই’কে ভুল উপাত্ত উপস্থাপনের জন্য দায়ী করে। আমাদের তথ্য ভুল প্রমাণ করতে Worldometer.com ওয়েবসাইটটি উৎস হিসেবে দেখানো হয়।

Worldometer.com এর ওয়েবসাইটে উল্লেখিত দেশগুলোর নিজস্ব পেইজগুলোতে একটি গ্রাফের মাধ্যমে দিন অনুযায়ী কোভিড-১৯ এর ব্যাপারে তথ্য জানা যায়। বাংলাদেশ, ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাদের গ্রাফগুলো নিম্নরূপ—

বাংলাদেশ

ইতালি

স্পেন

যুক্তরাষ্ট্র

এখানে দেখা যাচ্ছে যে এই সব গ্রাফ-ই ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে। যদিও এই সব দেশগুলোর কোনটিতেই প্রথম কোভিড-১৯ কেস শনাক্তের তারিখ এটি নয়। অনেক পাঠক ভুলবশত ফেব্রুয়ারি ১৫ কেই প্রথম কেস শনাক্তের তারিখ ভেবে আমাদের প্রদত্ত তথ্যকে ভুল দাবী করে।

‘ফেব্রুয়ারি ১৫’ প্রথম কেস শনাক্তের দিন ধরে বিশ্লেষণ

পর্যালোচনার খাতিরে উক্ত তারিখ থেকে ৪৫ দিন গণনা করা হলে ৪৫তম দিন পরের তারিখ হয় মার্চ ৩১। এই ওয়েবসাইটের গ্রাফ থেকে শনাক্তকৃত কেসের উপাত্ত পাওয়া যায় নিম্নরূপ—

দেশ ফেব্রুয়ারি ১৫ মার্চ ৩১ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রদত্ত উপাত্ত
বাংলাদেশ ৫১
ইতালি ১০৫,৭৯২ ১৩০,০০০
স্পেন ৯৫,৯২৩ ১০০,০০০
যুক্তরাষ্ট্র ১৫ ১৯৩,৩৫৩ ১২০,০০০

এই হিসেবেও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রদত্ত উপাত্ত অসামঞ্জস্য।

আমাদের সামগ্রিক পর্যালোচনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের প্রদত্ত উপাত্ত কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন। এছাড়াও চলমান দূর্যোগে এমন তুলনামূলক উপাত্ত উপস্থাপনের মাধ্যমে এখনো সফলতা প্রদর্শন কিংবা ব্যাপকতা মৃদুকরণের তার এই চেষ্টা অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক।

কোভিড-১৯ সংক্রান্ত বিভিন্ন উপাত্ত নিয়ে ‘যাচাই’ এর ড্যাশবোর্ড দেখুন।

প্রথম প্রকাশ:
সর্বশেষ হালনাগাদ:

পাদটীকা

মন্তব্য

আমাদের ফেসবুকগ্রুপে আলোচনায় যুক্ত হোন।: www.facebook.com/groups/jaachai