অনুসন্ধান

প্রথম প্রকাশ:

গুজবের উৎপত্তি

বিগত কয়েক মাস ধরে সময়সময়ে এই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়ে আসছে বিভিন্ন বেনামী নিউজপোর্টালে। সংবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় তাসফিয়া নামক সাড়ে তিন বছর বয়সী শিশুর গায়ে ‘পশুর’ লোম উঠছে এমন একটি খবর প্রকাশ করা হয়।

DailyNews96.com নামক একটি বেনামী নিউজপোর্টাল সংবাদটি প্রকাশ করে। পরবর্তীতে তা নামিয়ে ফেলে নিউজপোর্টালটি।

সত্যতা যাচাই

প্রায় এক বছর ধরে হুবহু কপি-পেস্ট করে একাধিক তথাকথিত নিউজপোর্টাল সংবাদটি প্রকাশ করে আসছে। যেখানে একবছরের অধিক সময় পার হয় গেলেও শিশুর বয়সের উল্লেখ রয়েছে “সাড়ে তিন বছর” এবং সাম্প্রতিক কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি সংবাদগুলোতে।

এই বিষয়ের ২ বছর পূর্বের একটি সংবাদের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। দৈনিক ইত্তেফাকের ২৫ আগস্ট ২০১৯ তারিখের সংবাদে উল্লেখ

“চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিরল রোগে আক্রান্ত দরিদ্র পরিবারে সাড়ে তিন বছরের শিশু কন্যা তাসফিয়া জাহান মুনিরা। তার বাবা দিনমজুর মাসুদুজ্জামান মামুন। বাড়ি নাচোল বনবিভাগের পাশে গোডাউন পাড়া।

শিশু তাসফিয়া জন্মের পর থেকেই তার শরীরের লম্বা লম্বা পশম দেখা যায়। দিন যতই গড়াচ্ছে পশমগুলিও বাড়তে বাড়তে পশুর মতো দেখা যাচ্ছে। শিশু তাসফিয়ার শরীরের পিঠের ছোট্ট একটি টিউমার থেকে এটির উৎপত্তি বলে তাসফিয়ার মা তানজিলা খাতুন জানান।”

এই বিষয়ে সেই বছর সেপ্টেম্বর মাসে বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়।

এই সংবাদ প্রকাশের প্রায় দুই মাস পর নভেম্বর ১, ২০১৯ তারিখে চ্যানেল২৪ এর সংবাদে উল্লেখ করা হয়—

“বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তার প্রথম অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, আরো কয়েকটি অস্ত্রোপচার ও সঠিক চিকিৎসা পেলে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে তাসফিয়া।”

Position Not Set

অর্থাৎ, সংবাদটি পুরনো হলেও বিরল একটি প্রেক্ষাপটের হওয়ায় শুধুমাত্র ক্লিক পাওয়ার জন্য প্রায় দুই বছর পরেও একই সংবাদ একই তথ্যে বারবার প্রকাশিত হয়ে আসছে। এছাড়াও শিরোনামে ‘হঠাৎ’ করে সমস্যাটি হচ্ছে বলা হলেও, এটি তাসফিয়ার জন্মগত সমস্যা বলে জানা যায়।

হাইপারট্রাইকোসিস কী?

তাসফিয়ার রোগের নাম হাইপারট্রাইকোসিস (Hypertrichosis)। এই রোগে শরীরের কোনো স্থানে অতিরিক্ত লোম গজায়, যা কোনো রোগের নির্দিষ্ট বয়সের জন্য স্বাভাবিক নয়। এটি সারা শরীরেও হতে পারে আবার বিচ্ছিন্নভাবে এক বা একাধিক স্থানেও হতে পারে। এটি রোগ জন্ম থেকেই কারো হতে পারে, আবার নির্দিষ্ট একটি বয়সেও এসে হতে পারে।[1]

বাংলাদেশের গাইবান্ধায় এই রোগে আক্রান্ত আরেকটি শিশুর খোঁজ পাওয়া যায় সোশ্যাল মিডিয়ার একটি ভিডিওতে।

জন্মগত হাইপারট্রাইকোসিস, যেটি তাসফিয়ার হয়েছে, সেটি জেনিটিক সমস্যা থেকে হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। জন্মগত হাইপারট্রাইকোসিসের সাধারণত কোনো চিকিৎসা নেই।

সর্বশেষ হালনাগাদ: