অনুসন্ধান

মূল উৎপত্তি

সংযুক্তি: বিদ্যানন্দ’র ফেসবুক পেইজ থেকে কিশোর কুমারের এমন সিদ্বান্ত জানানোর পিছনে সাম্প্রদায়িক অপপ্রচার কারণ হিসেবে একাধিকবার অস্বীকার করার হলেও, বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত সাক্ষাত্কারে কিশোর কুমার বিষয়টি স্বীকার করেন যে ব্যক্তিগত পর্যায় সাম্প্রদায়িক আক্রমণের কারণে তিনি এমন ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন

গত ৫ মে, ২০২০ তারিখে ‘বাংলাদেশ দর্পন’ নামক একটি নিউজ পোর্টাল “ধর্মের কারণে পদত্যাগ করতে হলো ‘বিদ্যানন্দ’র প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাশকে” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে। যাতে উল্লেখ করা হয় যে―

“দেশব্যাপী প্রশংসিত সমাজসেবামূলক সংস্থা ‘বিদ্যানন্দ’র প্রতিষ্ঠাতার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে সমালোচনার মুখে সংস্থাটির প্রধান পদ থেকে সরে যেতে হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা সহায়ক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটির প্রধান পদ থেকে কিশোর কুমার দাশ গত মাসেই পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে সংস্থাটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।”

আমাদের লেখার সময় পর্যন্ত এই সংবাদটিতে ফেসবুকে ১ লাখেরও বেশী বার লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার পেয়েছে।

তথ্যের সূত্র হিসেবে বিদ্যানন্দ’র পেইজে গিয়ে আলোচ্য পোস্টটি পাওয়া যায়। যাতে বলা হয়―

“বিদ্যানন্দ” নামটি দিয়েছেন মিরাজুল হক নামক এক ব্র্যান্ড এক্সপার্ট। “আনন্দের মাধ্যমে বিদ্যা অর্জন” নীতির আলোকে এই নামের অবতারণা।

অনেকেই ব্যক্তির নাম থেকে বিদ্যানন্দ নামের উদ্ভব ভেবে ভুল করেন। এজন্য আমরা নামটাই পরিবর্তন করতে চেয়েছি, কিন্তু স্বেচ্ছাসেবকরা রাজী হয় না।

বিদ্যানন্দের প্রবাসী উদ্যোক্তা সশরীরে খুব অল্পই সময় দিতে পারেন। ৯০% মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকরাই চালিয়ে যান বিশাল কর্মযজ্ঞ। তবুও উদ্যোক্তার ধর্ম পরিচয়ে অনেকেই অপপ্রচার চালায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে।

সে সমস্যাও আশা করি সমাধান হয়ে যাবে। বিদ্যানন্দ প্রধান গত মাসেই পদ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। বিষয়টি আমরা প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম কভিড-১৯ ক্যাম্পেইনের পরে।

ত্যাগের উপর ভিত্তি এই প্রতিষ্ঠানের। ত্যাগী স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য এখনো আমরা স্বপ্ন দেখি নতুন পৃথিবী আনার, অনুপ্রেরণার গল্প রচনা করার।

এই পোস্টে কোথাও বলা হয়নি যে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কিশোর কুমার পদত্যাগ করেছেন। তিনি কেবল সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। এছাড়াও তার পদ থেকে সরে যাওয়ার এই সিদ্বান্তের পিছনে কোন কারণ উল্লেখ করা হয়নি। বরং বলা হয়েছে এই কার্যক্রম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ স্বেচ্ছাসেবক দ্বারা পরিচালিত হওয়া স্বত্বেও যেহেতু প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমারের ধর্মকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি করা হয়, তার চলে যাওয়ার এই সিদ্বান্ত বাস্তবায়নের পর এই বিতর্ক আর হবে না। আক্ষেপের ভাষায় প্রকাশিত এই পোস্টটি আবেগ তাড়িত এবং যথেষ্ট সুচিন্তিত নয়।

পদত্যাগের পিছনে প্রকৃত ঘটনা

বিদ্যানন্দ’র পেইজের পোস্টটি ভোর ৫ঃ৩০ মিনিটে প্রকাশিত হয় এবং আলোচ্য সংবাদটি প্রকাশিত হয় প্রায় আড়াই ঘন্টা পর সকাল ৮টার দিকে। ৪ বার সংশোধিত পোস্টটির সকাল ১০ঃ৪০ মিনিটে প্রকাশিত সর্বশেষ সংস্করণে সংযোজিত হয় নতুন আরও কিছু তথ্য―

গত মাসেই বিদ্যানন্দের প্রধান পদত্যাগের কথা জানিয়ে দেন স্বেচ্ছাসেবকদের। সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারে নয়, বরঞ্চ ব্যক্তিগত ত্যাগে স্বেচ্ছাসেবকদের অনুপ্রাণিত করার এবং নতুন মেধায় প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করার স্বপ্নে এমন সিদ্ধান্ত। আর তিনি প্রধানের পদ ছাড়লেও বিদ্যানন্দ ছাড়ছেন না, বরঞ্চ সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন।

আমরা বিষয়টি প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম চলমান ক্যাম্পেইনের পরে। কিন্তু কিছুদিন ধরে চলা মাত্রাতিরিক্ত সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারে জল ঢালতে খবরটি আজকে শেয়ার করলাম।

আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য বিষয়টি হতাশার নয়। বরঞ্চ পদ আঁকড়ে থাকার মানসিকতার এই সমাজে উল্টা পথে হাঁটতে পারার জন্য গর্ব হচ্ছে। আর বিদ্যানন্দে পদে কি যায় আসে? এখানে তো কাজটাই আসল, আর সেটাই আমরা করে ছাড়বো।

এই পোস্ট থেকে এটি সুস্পষ্ট হয় যে প্রতিষ্ঠানের নাম ও প্রতিষ্ঠাতার ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে প্রতিষ্ঠানিক কার্যক্রম কিছু ক্ষেত্রেই ব্যহত ও বিতর্কিত হয়ে থাকলেও এই ধরণের চাপের কারণে কিশোর কুমার তার পদ ত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। তার পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশের মূল কারণ হচ্ছে, প্রবাসী হওয়ার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে সশরীরে যথেষ্ট সময় দিতে না পারা এবং প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতিষ্ঠাতা কেন্দ্রিক না রেখে নেতৃত্বে অন্য সদস্যদের আসতে উৎসাহিত করা। এছাড়াও তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব ছেড়ে, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

কিন্তু এই পোস্টের পূর্বের বিভ্রান্তিকর সংস্করণ ইতিমধ্যে অসংখ্যবার শেয়ার হয়ে যায় এবং এর সাথে ভাইরাল হতে থাকে বিভ্রান্তিকর তথ্যের উপর নির্ভর করে তৈরি বিভ্রান্তিকর ভাবে উপস্থাপিত সংবাদটি। অবশেষে ৫ মে, ২০২০ তারিখে রাতেই বিভ্রান্তিকর পোস্টটি ফেসবুক থেকে মুছে ফেলা হয়।

প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাশ অপর আরেকটি পোস্টে বিষয়টি পরিষ্কার করেন―

এই পোস্ট থেকে এটি সুস্পষ্ট যে বিদ্যানন্দ’র প্রধান হিসেবে তিনি অব্যাহতি প্রদান করেননি। বিষয়টি আলোচনাধীন রয়েছে। ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার জন্য তিনি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পরিবর্তন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মাত্র। যা এখনো কার্যকর হয়নি।

পূর্বের পোস্টে ভাষাগত অস্পষ্টতা ও আবেগ তাড়িত আচরণ এমন বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। যদিও ৫ লক্ষাধিক মানুষের ফলো করা একটি মাধ্যম থেকে আরো সতর্কতা ও যত্নের সাথে এমন সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বার্তা প্রচার করা দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানটি থেকে কাম্য ছিলো।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন নিয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানি

২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন একটি শিক্ষা সহায়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সরকার নিবন্ধিত সংগঠনটি সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণীর ছেলেমেয়েদের শিক্ষা সংক্রান্ত সহায়তা প্রদান করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি ‘১ টাকায় আহার’ নামক একটি উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় প্রতিদিন ১,৫০০ দুঃস্থ মানুষের মাঝে মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে খাদ্য প্রদান করা শুরু করে। মূলত এই কার্যক্রমের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানটি সবার কাছে সমাদৃত ও সুপরিচিত হয়।

প্রতিষ্ঠানটি ধর্মীয় কোন সংগঠন নয়। এর নামটি এসেছে ‘বিদ্যা+আনন্দ’ থেকে এবং নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির নাম অনুসারে নয়। বিভিন্ন ধর্মালম্বি (প্রতিষ্ঠানটির দাবী অনুযায়ী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ) স্বেচ্ছাসেবকদের দ্বারাই এই সংগঠনটি পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে যেহেতু প্রতিষ্ঠানটি ইসলাম ধর্মালম্বীদের যাকাত থেকে অনুদান সংগ্রহ করে, তাই প্রতিষ্ঠানটির নাম, কার্যক্রম, উদ্দেশ্য ও প্রতিষ্ঠাতার ধর্ম প্রায়শই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়।

তবে বিভিন্ন চক্রান্তকারী মহল বিভিন্ন সময় এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে সাম্প্রদায়িক বিভেদ আনার চেষ্টা করেছে। বিশেষত ইসলাম ধর্মালম্বীদের রমাদানে দুস্থদের ইফতার খাওয়ানোর কার্যক্রমকে প্রায় সময় নানান ভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়। ২০১৭ সালে ‘যাচাই’ থেকে এমন একটি গুজবের সত্যতা প্রকাশ করা হয় যার দাবী ছিলো―

“এই বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন নামের এক সংগঠন যারা কিনা চরম পর্যায়ের ইসলাম বিদ্বেষী একটি সংগঠন। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের ক্ষতি করা। তারা এই উদ্দেশ্য সফল করতে তাদের এই রকম উদ্যোগ গ্রহন। তারা ইফতারের খাবারের সাথে তাদের ”মা গরুর মুত্র” মিশিয়ে ইফতার তৈরী করে মুসলমানদের মধ্যে তা বিতরন করার উদ্যোগ নেই। যাতে করে মুসলমানদের সারা দিনের কষ্টের রোজা এই নাপাক ইফতারি খেয়ে নষ্ট হয়ে যায়।”

বিবিসি’র নাম দিয়ে করা ভুয়া একটি সাইটে প্রকাশিত বানোয়াট খবরটি সেই সময় বেশ ভাইরাল হয়। ২০২০ সালে করোনা প্রাদূর্ভাব শুরু হলে, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে আঘাত আনা হয়। একাধিকবার তাদের ‘১ টাকায় আহার’ নামক পেইজটি সুসংবদ্ধভাবে রিপোর্ট করে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

‘Srabon Ispahani-শ্রাবন ইস্পাহানী’ নামক একটি ফেসবুক পেইজ থেকে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন নিয়ে প্রচার করা হয় এসব ষড়যন্ত্র তত্ত্ব

সম্প্রতি ‘Srabon Ispahani-শ্রাবন ইস্পাহানী’ নামক একটি ফেসবুক পেইজ থেকে ‘উপরে বিদ্যানন্দ, ভিতরে ইস্কনানন্দ- ১ম পর্ব‘ শিরোনামে একটি পোস্ট গত মে ৪, ২০২০ তারিখে প্রকাশ করা হয়। পোস্টটিতে প্রতিষ্ঠানটিকে ভারতীয় কট্টরপন্থী ধর্মীয় সংস্থা ইস্কন (ISKCON) এর একটি উপ-প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবী করা হয়। পোস্টটি আমাদের এই লেখা প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত মাত্র ১ দিনেই ২ হাজার ৩০০ বারের উপর শেয়ার হয়। মে ৬ তারিখ রাত ১টায় প্রকাশিত হয় এর ২য় পর্ব। যা প্রকাশের মাত্র ১ ঘন্টার মাঝেই প্রায় শতাধিক শেয়ার লাভ করে।

বাংলাদেশে অনলাইনে সাম্প্রদায়িক উস্কানি প্রদান করে কারা?

‘যাচাই’ এর অনুসন্ধানে দেখা যায় এই পেইজটি এই মার্চে ‘Srabon bosu-শ্রাবন বসু’ নামে  তৈরি করা হয়। এপ্রিলের মাঝামাঝি তা ‘শ্রাবন ইস্পাহানী’ নামে পুনঃনামকরণ করা হয়। এই পেইজের পোস্টগুলো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব (Conspiracy Theory) প্রকৃতির এবং অনেক পোস্টে তথ্যবহুল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য দ্বারা সাম্প্রদায়িক উস্কানি প্রদান করা হয়। এই পেইজটি অন্তত তিনটি দেশ থেকে পরিচালনা করা হয়, যার একটিও বাংলাদেশ নয়।

‘Srabon bosu-শ্রাবন বসু’ পেইজটি অন্তত তিনটি দেশ থেকে ৪ জন পরিচালনা করে। এদের কেউই বাংলাদেশ থেকে নয়।

এমন আরেকটি সুপরিচিত তথ্যবহুল ষড়যন্ত্র তত্ত্ব (Conspiracy Theory) প্রকৃতির ফেসবুক পেইজ হচ্ছে ‘Noyon Chatterjee 6’। ২০১৬ সালে তৈরিকৃত পেইজটির ফলোয়ার ৭০ হাজারেরও বেশী। এই পেইজটি তথ্যবহুল গবেষণাধর্মী অপতথ্য দ্বারা সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক উস্কানি প্রদান করে। এই পেইজটিও পরিচালিত হচ্ছে ৮ জন ব্যক্তি দ্বারা এবং বাংলাদেশ সহ আরও তিনটি দেশ থেকে।

‘Noyon Chatterjee 6’ পেইজটি অন্তত ৪টি দেশ থেকে ৮ জন মানুষ দ্বারা পরিচালিত।

সনাতন ধর্মী নাম ব্যবহার করে প্রচারিত এই পেইজগুলো কার্যক্রম ও ভাষাগত দিক থেকে হুবহু একই প্রকৃতির। এসব পেইজের নাম হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নাম সদৃশ হলেও এসব পেইজের পোস্টে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের উস্কানি দিয়ে অপর ধর্ম বিদ্বেষী পোস্ট প্রচার করা হয়। এছাড়াও নানান ধরণের সরকার বিরোধী তত্ত্ব এখানে এমনভাবে তুলে আনা হয় যেন তা অনেক গবেষণাধর্মী ও তথ্যবহুল।

বিভিন্ন তথ্যসূত্র দেখিয়ে তাদের বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য করে প্রকাশের চেষ্টা করা হয়।

অথচ খেয়াল করে কেউ যাচাই করে পড়লে দেখতে পাবে যে এসব পেইজের দাবীগুলোর অধিকাংশই কুযুক্তি, অপব্যাখ্যা ও ভিত্তিহীন উৎস থেকে সৃষ্ট। সুচিন্তিতভাবে লেখা এসব অপতথ্যের শিকার হয় সাধারণ মানুষ এবং তা ছড়িয়ে দেয় অসংখ্য চেনা-অচেনা অনলাইন মাধ্যমে।

‘Noyon Chatterjee 6’ নামে পরিচালিত ফেসবুক গ্রুপে নিয়মিত শেয়ার করা হয় বিদ্বেশমূলক পোস্ট। চরমপন্থীদের টার্গেট হয় এই ধরণের গ্রুপগুলো।

তথ্যবহুল গবেষণাধর্মী অপতথ্য কী?

এটি অপতথ্য প্রচারের এমন একটি উপায় যার মাধ্যমে পাঠককে গবেষণাধর্মী লেখার মত করে অজস্র তথ্য গ্রাস করানো হয়। যেসব ব্যাপারে অধিকাংশেরই প্রাথমিক জ্ঞান থাকে না। অনেক তথ্যসূত্র উল্লেখ করে পাঠকের কাছে লেখাটি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। এসব তথ্যগুলো সুনির্দিষ্টভাবে কিছু প্রমাণ না করলেও লেখার মধ্যে সুনির্দিষ্ট কিছু শব্দ বারবার পুনরাবৃত্তি করে পাঠকের মনে কিছু বিশ্বাস ও ধারণা ক্রমে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

লেখাগুলো প্রথমে শুরু হয় সাধারণ মানুষের সাধারণ বিশ্বাসগুলোকে ইতিবাচক স্বীকৃতি প্রদান করার মাধ্যমে। তাদের আবেগ ও আক্ষেপের জায়গাগুলো ব্যবহার করে তাদের বিশ্বাস অর্জন করার চেষ্টা চালানো হয়। একসময় এমন তথ্যের বারবার পুনরাবৃত্তিতে একটি গোষ্ঠীর আচরণ ও চিন্তায় বিশেষ প্রভাব বিস্তার শুরু করে এবং সেটি তাদের চরমপন্থি কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করে।

সারা বিশ্বেই ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ব্যবহার করে মানুষের বিশ্বাসকে নিয়ন্ত্রণের এমন প্রচেষ্টা রয়েছে। টার্গেট গ্রুপের ভিন্নতায় এদের ধর্মীয় বিশ্বাস কেন্দ্রিক বক্তব্য ভিন্ন (কিছু ক্ষেত্রে পরস্পরের বিপরীত) হলেও সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়াদিতে এদের আলোচনার ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলো সাধারণত একমুখী হয়।

পাদটীকা

মন্তব্য

আমাদের ফেসবুকগ্রুপে আলোচনায় যুক্ত হোন।: www.facebook.com/groups/jaachai

দাবীটি প্রচারণার সময়কাল