অনুসন্ধান

মূল উৎপত্তি

আলোচ্য ভিডিওটিতে দেখানো হয়, জনৈক দোকানদার আহসান হাবীব পেয়ার নামক একজনের কাছে একটি ব্র্যান্ডের জুতা দেখান যাতে বলা হয় মুসলমানদের শেষ নবীর নাম খোদাই করে লেখা। ভিডিওটিতে আহসান হাবীব দাবী করেন ইসলাম ধর্ম অবমাননার উদ্দেশ্যেই কিছু গোষ্ঠী এই ধরনের জুতাগুলো বাজারে ছাড়ে যাতে ‘মুহাম্মদ’, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, ‘আল্লাহ’ ইত্যাদি লেখা থাকে। এছাড়াও তিনি দাবী করেন, এই অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য জুতাটির কোম্পানি কোথাও নাম সংযুক্ত করে নি।

জুতাটি হাতে আহসান হাবীব পেয়ার।

আলোচ্য ভিডিওটি শেয়ার করা হয় ৪৯ হাজার বারের উপর। এই ভিডিওটির একটি কমেন্ট থেকে এই মডেলের জুতা ব্যবহার করছেন এমন একজনের শেয়ার করা ছবি পাওয়া যায়―

তানভির ইসলাম তন্ময়য়ের শেয়ার করা ছবি।

তানভির ইসলাম তন্ময় তার ছবির বিবরণে লেখেন―

আসলে আমি এই ভাইয়ের ভিডিওটা দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম কারন আমি ১ বছর ধরে স্যান্ডেলটা ব্যবহার করছি। তাই সাথে সাথে গিয়ে ভালো মতো দেখলাম এটা একটা পাখির ছবি। আপনারা সবাই ভালো করে দেখুন। আসলে এই ধর্ম নিয়ে অবমাননা প্রচার করার আগে যাচাই করা দরকার আমাদের প্রতিটি মুসলমানের। (বানান পরিমার্জিত)

ছবিটি থেকে দেখা যায় জুতাটি ‘RavenZ’ নামক একটি ব্র্যান্ডের জুতা, যা জুতার তলায় ছোট লাল রাবারের সিলে খোদাই করা। Raven এর বাংলা অর্থ ‘দাঁড়কাক’। ব্র্যান্ডের নাম অনুযায়ীই তাদের লাল রাবারের সিলের নিচে পাখির প্রতিকৃতি আকা হয়েছে। আহসান হাবীবের দাবী করলেও সেটিকে আরবি বর্ণ ‘মিম’, ‘হা’, ‘মিম’ ‘দাল’ কিংবা محمد লেখার অনুরূপ দেখা যাচ্ছে না।

তানভির তন্ময়য়ের ছবিটির সাথে ভিডিও থেকে প্রাপ্ত ছবির তুলনা।

আহসান হাবীব পেয়ার ফেইসবুক ও ইউটিউবে ধর্ম ভিত্তিক বিভিন্ন কন্টেন্ট শেয়ার করে থাকেন। এর মধ্যে আছে বিভিন্ন হামদ-নাথ, ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে রোগীর রোগ নিরাময় (যা অভিনয় করে দেখানো) ও ‘আমিন না লিখে যাবেন না’ ধরণের আবেগ নির্ভর পোস্ট। তার ফেইসবুক প্রোফাইল ও পেইজের ফলোয়ার দেড় লক্ষাধিক। এছাড়াও তিনি নিজ নামে AHP.TV নামক একটি পেইজ চালিয়ে থাকেন। অন্যসব ধর্ম ভিত্তিক গুজব পেইজের মতই তার সোশ্যাল মিডিয়া পেইজগুলোতেও পাওয়া যায়, ফল কিংবা গাছে ‘আল্লাহ’ লেখা নিদর্শন। এসব পোস্ট সাধারণত ব্যবহৃত হয়ে থাকে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে শেয়ার কিংবা ফলোয়ার বাড়ানোর জন্য। তাই এইখানে আহসান হাবীব পেয়ারের বিবেচনা জ্ঞান নির্ভরযোগ্য বলা যাচ্ছে না।

স্বাভাবিকভাবেই এই ধরনের গুজব মাধ্যমগুলো যেহেতু মানুষের মাঝে এমন নেতিবাচক বার্তা ও শঙ্কা প্রতিনিয়ত প্রচার করে যায়, তাই সাধারণ মানুষ, যাদের অনেকেরই ধর্ম বিষয়ক এমন কি আরবি বর্ণ সম্বন্ধে জ্ঞান সীমিত, তারা খুব সহজেই এসব গুজব বিশ্বাস করে এবং ভিডিওগুলো অবাধে শেয়ার করে।

প্রথম প্রকাশ:
সর্বশেষ হালনাগাদ:

পাদটীকা

মন্তব্য

আমাদের ফেসবুকগ্রুপে আলোচনায় যুক্ত হোন।: www.facebook.com/groups/jaachai

প্রচারিত মাধ্যম

কোন মিডিয়া অন্তর্ভুক্ত করা হয় নি? রিপোর্ট করুন